দেশি মুরগির খাবার তালিকা: বাচ্চা থেকে বড় মুরগির দৈনিক খাবারের নিয়ম

দেশি মুরগি পালনে খাবার শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়; মুরগির বৃদ্ধি, শরীরের গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ডিম বা মাংসের উৎপাদনের সঙ্গে খাবারের সরাসরি সম্পর্ক আছে। ভালো বাচ্চা ও ভালো ঘর থাকার পরও খাবারের ব্যবস্থাপনায় ভুল হলে মুরগি ঠিকমতো বাড়তে নাও পারে।

দেশি মুরগির খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বয়স অনুযায়ী খাবার দেওয়া, খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য রাখা এবং সবসময় পরিষ্কার পানি সরবরাহ করা। বাড়িতে অল্প কয়েকটি মুরগি পালন করা হোক বা ছোট খামার করা হোক, খাবারের অপচয় কমানো এবং নিয়মিত মুরগির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।

এই লেখায় দেশি মুরগির বাচ্চা থেকে বড় মুরগি পর্যন্ত খাবারের ধরন, খাবার দেওয়ার নিয়ম, পানির গুরুত্ব, খাবার সংরক্ষণ এবং খাবারের সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা দরকার—এসব বিষয় সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

সূচিপত্র

দেশি মুরগির খাবার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সঠিক খাবারে মুরগির বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য

দেশি মুরগি স্বাভাবিকভাবে বাড়তে হলে খাবার থেকে পর্যাপ্ত শক্তি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পেতে হয়। বাচ্চা অবস্থায় শরীরের দ্রুত বৃদ্ধি হয় বলে তখন সঠিক খাবারের গুরুত্ব আরও বেশি।

শুধু ভাত, চাল বা ধান খাওয়ালে মুরগির পেট ভরতে পারে, কিন্তু এতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিক অনুপাতে নাও থাকতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী সুষম খাবারের ব্যবস্থা করা ভালো।

বড় মুরগির ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। খাবারের মান ভালো হলে মুরগির শরীর ভালো থাকে, পালক স্বাভাবিক থাকে এবং খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি শরীরের কাজে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।

খাবারে ঘাটতি হলে কী সমস্যা হতে পারে?

খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হলে মুরগির বৃদ্ধি ধীর হতে পারে। বাচ্চা মুরগি বয়স অনুযায়ী ছোট থেকে যেতে পারে, শরীর দুর্বল হতে পারে এবং পালকের অবস্থাও খারাপ দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে শুধু বেশি খাবার দিলেই ভালো ফল পাওয়া যায় না। খাবারের মান, পুষ্টির ভারসাম্য এবং মুরগির বয়স অনুযায়ী খাবারের ধরন—সবকিছু বিবেচনা করতে হবে।

তাই খাবার কেনার সময় শুধু দাম কম কি না সেটি না দেখে খাবারটি মুরগির বয়স ও প্রয়োজনের জন্য উপযুক্ত কি না সেটাও দেখুন।

দেশি মুরগির বাচ্চার খাবার

ছোট বাচ্চার জন্য উপযুক্ত খাবার

দেশি মুরগির বাচ্চা জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ খুব যত্নের সময়। এই সময়ে বাচ্চার শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাই সহজে হজম হয় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে—এমন খাবার দেওয়া দরকার।

বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ভালো মানের চিক স্টার্টার ফিড ছোট বাচ্চার জন্য একটি সহজ ও নির্ভরযোগ্য খাবার। এতে বাচ্চার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি সাধারণত ভারসাম্যপূর্ণভাবে থাকে।

বাড়িতে তৈরি খাবার দিতে চাইলে কী কী উপাদান কত পরিমাণে মেশানো হবে তা না জেনে আন্দাজে তৈরি করা ঠিক নয়। কারণ শুধু চালের কুঁড়া, ভাঙা চাল বা ভুট্টা দিয়ে বাচ্চার সম্পূর্ণ পুষ্টির চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে।

বাচ্চার খাবার সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন। ভেজা, দুর্গন্ধযুক্ত বা ছত্রাকযুক্ত খাবার কোনো অবস্থাতেই দেওয়া উচিত নয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে খাবারে পরিবর্তন

মুরগির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পুষ্টির চাহিদাও পরিবর্তিত হয়। তাই বাচ্চা অবস্থার খাবার দীর্ঘদিন একইভাবে না দিয়ে বয়স অনুযায়ী ফিড বা খাদ্য ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করতে হয়।

প্রথম দিকে বাচ্চার খাবারে সহজে হজমযোগ্য ও প্রয়োজনীয় প্রোটিনের গুরুত্ব বেশি থাকে। পরে মুরগি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার খাদ্যের পরিমাণ ও ধরনও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—দেশি মুরগি ধীরে বাড়ে বলে তাকে শুধু কম দামের খাবার দিলেই খরচ কমবে, এমনটা নয়। খাবারের মান খুব কমে গেলে মুরগির বৃদ্ধি কমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মোট উৎপাদন খরচই বেড়ে যেতে পারে।

বাচ্চাকে খাবার দেওয়ার সময় ও নিয়ম

বাচ্চার খাবার এমন পাত্রে দিন, যাতে সব বাচ্চা সহজে খাবারে পৌঁছাতে পারে। খুব গভীর পাত্র ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ছোট বাচ্চা খাবার ছড়িয়ে দিতে পারে বা পাত্রে উঠে যেতে পারে।

একবারে অনেক খাবার দিয়ে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার দিন। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।

খাবারের পাশাপাশি বাচ্চার কাছে সবসময় পরিষ্কার পানি থাকতে হবে। পানির পাত্র এমনভাবে রাখুন যাতে বাচ্চা সহজে পানি পান করতে পারে কিন্তু পাত্রে ময়লা বা লিটার পড়ে না।

বড় দেশি মুরগির খাবার তালিকা

বড় মুরগির জন্য প্রধান খাবার

বড় দেশি মুরগির খাবারে শস্যজাতীয় খাবার, প্রোটিনের উৎস এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ভারসাম্য থাকা দরকার।

ভাঙা চাল, ভুট্টা, গম, ধান বা অন্যান্য স্থানীয়ভাবে পাওয়া শস্য খাদ্যের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোন খাবার কতটা দেওয়া হবে তা মুরগির বয়স, আকার এবং পালনের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে।

মুরগি যদি ডিমের জন্য পালন করা হয়, তাহলে ডিম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির দিকে আলাদা নজর দিতে হবে। আর মাংসের জন্য পালন করলে দ্রুত ও স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধির জন্য সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শস্য, ভুসি ও অন্যান্য খাবার

দেশি মুরগির খাদ্যে ভাঙা চাল, ভুট্টা, গম, চালের কুঁড়া বা ভুসি ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি নিরাপদ সবুজ খাবার বা কিছু শাকসবজিও দেওয়া যায়।

তবে এগুলোকে এমনভাবে দিতে হবে যেন মূল খাদ্যের পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট না হয়। শুধু শস্য বা শুধু ভুসির ওপর নির্ভর করলে মুরগির প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি নাও মিলতে পারে।

বাড়ির রান্নাঘরের কিছু নিরাপদ উচ্ছিষ্ট খাবার অল্প পরিমাণে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত লবণ, মসলা, তেল বা পচা খাবার মুরগিকে দেওয়া উচিত নয়।

প্রাকৃতিকভাবে খাবার সংগ্রহের সুযোগ

দেশি মুরগির একটি সুবিধা হলো তারা খোলা জায়গায় ঘাস, ছোট পোকামাকড় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার খুঁজে খেতে পারে। নিরাপদ জায়গায় চলাফেরার সুযোগ থাকলে তারা নিজেরাও কিছু খাবার সংগ্রহ করতে পারে।

তবে মুরগি বাইরে খাবার খাচ্ছে বলে ঘরের খাবার বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া খাবারের পরিমাণ ও পুষ্টিমান প্রতিদিন একরকম থাকে না। তাই মূল খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে।

বাইরে ছাড়ার জায়গাটি নিরাপদ কি না সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। কীটনাশক দেওয়া জমি, ময়লা জায়গা বা রোগাক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে আসতে পারে এমন জায়গায় মুরগিকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

দেশি মুরগিকে দিনে কতবার খাবার দিতে হয়?

বাচ্চা মুরগিকে খাবার দেওয়ার নিয়ম

বাচ্চা মুরগি দ্রুত বেড়ে ওঠে বলে তাদের নিয়মিত খাবারের সুযোগ থাকা দরকার। বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত স্টার্টার ফিড ব্যবহার করে প্রয়োজনমতো খাবার সরবরাহ করুন।

ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে খাবার পাত্র খালি হয়ে গেলে দীর্ঘ সময় খাবার না থাকা উচিত নয়। আবার একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার দিয়ে রাখলে খাবার ছড়িয়ে নষ্ট হতে পারে।

তাই বাচ্চার সংখ্যা এবং খাবার খাওয়ার পরিমাণ দেখে ধীরে ধীরে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।

বড় মুরগির খাবার দেওয়ার সময়

বড় দেশি মুরগিকে নিয়ম করে খাবার দেওয়া ভালো। দিনের শুরুতে এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার দেওয়া যায়। তবে পালন পদ্ধতি, বয়স, মুরগির সংখ্যা এবং তারা বাইরে কতটা খাবার সংগ্রহ করতে পারছে—এসবের ওপর খাবারের ব্যবস্থাপনা নির্ভর করবে।

সব মুরগি যেন একই সঙ্গে খাবারে পৌঁছাতে পারে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। পাত্র কম হলে শক্তিশালী মুরগি বেশি খাবার খেয়ে ফেলতে পারে এবং দুর্বল মুরগি পিছিয়ে পড়তে পারে।

অতিরিক্ত খাবার দেওয়ার সমস্যা

অনেকেই মনে করেন বেশি খাবার দিলে মুরগি দ্রুত বড় হবে। বাস্তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাবার দিলে খাবারের অপচয় বাড়ে এবং মুরগির স্বাভাবিক খাদ্য ব্যবস্থাপনাও বিঘ্নিত হতে পারে।

মুরগি কতটা খাবার খাচ্ছে, খাবার পাত্রে কতটা পড়ে থাকছে এবং মুরগির স্বাস্থ্য ও ওজন কেমন—এসব দেখে খাবারের পরিমাণ সামঞ্জস্য করা ভালো।

খরচ কমানোর জন্য খাবার কমিয়ে দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি অকারণে বেশি খাবার দেওয়াও লাভজনক নয়।

দেশি মুরগির খাবারের সঙ্গে পরিষ্কার পানির গুরুত্ব

সবসময় পরিষ্কার পানি রাখার নিয়ম

মুরগির খাবারের পাশাপাশি পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গরমের সময় পানি গ্রহণ আরও বেড়ে যেতে পারে, তাই পানির পাত্র কখনো খালি হয়ে যাচ্ছে কি না তা নিয়মিত দেখুন।

পানির পাত্র এমন জায়গায় রাখুন যেখানে মুরগির বিষ্ঠা, লিটার বা খাবার সহজে পড়ে না। পানি ঘোলা, দুর্গন্ধযুক্ত বা নোংরা হয়ে গেলে পাত্র পরিষ্কার করে নতুন পানি দিন।

গরমের দিনে পানি দ্রুত গরম হয়ে গেলে সম্ভব হলে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত জায়গায় পানির পাত্র রাখুন।

পানির পাত্র পরিষ্কার রাখবেন যেভাবে

পানির পাত্র শুধু পানি দিয়ে ভরে দিলেই হবে না। পাত্রের ভেতর শেওলা, ময়লা বা খাবারের অংশ জমছে কি না নিয়মিত দেখুন।

প্রয়োজনে পাত্র খালি করে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার পানি দিন। পানির পাত্র মাটিতে এমনভাবে রাখবেন না যাতে লিটার বা মাটি সহজেই ভেতরে ঢুকে যায়।

মুরগির সংখ্যা বেশি হলে একাধিক পানির পাত্র রাখলে সব মুরগির পানি পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।

দেশি মুরগির খাবার সংরক্ষণের নিয়ম

খাবার শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় রাখা

খাবার ভালো হলেও ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ভুসি, ভাঙা শস্য বা তৈরি ফিড আর্দ্র জায়গায় রাখলে ছত্রাক ধরার ঝুঁকি থাকে।

তাই খাবার শুকনো, পরিষ্কার এবং বাতাস চলাচল করে এমন নিরাপদ জায়গায় রাখুন। খাবারের বস্তা সরাসরি ভেজা মেঝেতে না রেখে শুকনো উঁচু জায়গায় রাখলে ভালো।

নতুন খাবার আনার পর পুরোনো খাবার আগে ব্যবহার করুন। এতে অনেকদিন পড়ে থেকে খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

পচা, ছত্রাকযুক্ত বা বাসি খাবার এড়িয়ে চলা

খাবারে অস্বাভাবিক গন্ধ, ছত্রাক, স্যাঁতসেঁতে ভাব বা পচনের লক্ষণ দেখা গেলে মুরগিকে সেই খাবার দেবেন না।

অনেকে খাবারের সামান্য অংশ নষ্ট হয়েছে দেখে ভালো অংশের সঙ্গে মিশিয়ে মুরগিকে খাওয়ান। এটি করা ঠিক নয়। সন্দেহজনক বা ছত্রাকযুক্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়াই নিরাপদ।

খাবারের পাত্রেও পুরোনো খাবার জমিয়ে রাখবেন না। নতুন খাবার দেওয়ার আগে পাত্রে পড়ে থাকা নষ্ট বা ভেজা খাবার পরিষ্কার করে নিন।

দেশি মুরগিকে খাবার দেওয়ার সময় যে ভুলগুলো করবেন না

বয়স অনুযায়ী খাবার না দেওয়া

বাচ্চা, বাড়ন্ত মুরগি এবং বড় মুরগির প্রয়োজন এক নয়। তাই সব বয়সের মুরগিকে একই খাবার দিয়ে দীর্ঘদিন চালানোর চেষ্টা করবেন না।

বিশেষ করে ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে বয়স উপযোগী সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য পরিবর্তন করুন।

নোংরা পানি ও খাবারের পাত্র ব্যবহার

নোংরা পাত্রে খাবার বা পানি দেওয়া খুব সাধারণ একটি ভুল। এতে খাবার ও পানিতে ময়লা মিশে যেতে পারে এবং মুরগির স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তাই খাবার ও পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং মুরগির ঘরের ময়লা থেকে পাত্রগুলোকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।

একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার দেওয়া

একবারে অনেক খাবার দিয়ে রাখলে মুরগি কিছু খাবার ছড়িয়ে নষ্ট করতে পারে। বাইরে পড়ে থাকা খাবারে ময়লা বা আর্দ্রতা জমে গেলে সেটি আর নিরাপদ নাও থাকতে পারে।

তাই মুরগির সংখ্যা ও প্রতিদিনের খাবার খাওয়ার ধরন বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার দিন। কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করলেই নিজের পাল কতটা খাবার খায় সে সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি হবে।

দেশি মুরগির ভালো বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ

খাবারের সঙ্গে সুষম ব্যবস্থাপনা

শুধু ভালো খাবার দিলেই দেশি মুরগি ভালো থাকবে না। খাবারের পাশাপাশি পরিষ্কার পানি, নিরাপদ ঘর, পর্যাপ্ত জায়গা, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও ঠিক রাখতে হবে।

মুরগির বয়স, সংখ্যা ও পালন পদ্ধতি অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা করুন। একই সঙ্গে খাবারের অপচয় কতটা হচ্ছে সেটিও খেয়াল রাখুন। নিয়মিত হিসাব রাখলে মাস শেষে খাবারের খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

খাবার কেনার সময় শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে খাবারের মান এবং মুরগির জন্য উপযোগিতা বিবেচনা করুন। নিম্নমানের খাবারের কারণে মুরগির বৃদ্ধি কমে গেলে সস্তা খাবার ব্যবহার করে প্রকৃতপক্ষে লাভ নাও হতে পারে।

মুরগির স্বাস্থ্য ও খাবার গ্রহণ পর্যবেক্ষণ

মুরগি প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে খাবার খাচ্ছে কি না খেয়াল করুন। কোনো মুরগি হঠাৎ খাবার কম খেলে, আলাদা হয়ে থাকলে, দুর্বল দেখালে বা ওজন কমতে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।

একই বয়সের মুরগিগুলোর মধ্যে কোনোটি খুব পিছিয়ে থাকলে তার খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনে তাকে আলাদা করে পর্যবেক্ষণ করুন।

ছোট খামারে সপ্তাহে একবার কয়েকটি মুরগির ওজন মেপে লিখে রাখতে পারেন। এতে মুরগির বৃদ্ধি কেমন হচ্ছে তা বোঝা সহজ হবে। পাশাপাশি খাবারের পরিমাণ ও খরচও লিখে রাখলে ভবিষ্যতে নিজের খামারের জন্য ভালো খাদ্য ব্যবস্থাপনা তৈরি করা সহজ হবে।

দেশি মুরগির খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বয়স অনুযায়ী সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। শুধু বেশি খাবার দিলেই মুরগি দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে বড় হবে না। খাবারের মান, পরিমাণ, পরিচ্ছন্নতা এবং পুরো পালন ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে ঠিক রাখতে পারলেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

শেষ কথা

দেশি মুরগি পালন করে ভালো ফল পেতে হলে খাবারের বিষয়ে শুরু থেকেই একটু হিসাবি হতে হবে। বাচ্চার জন্য উপযুক্ত খাবার দিয়ে শুরু করে বয়স বাড়ার সঙ্গে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি খাবার যেন নষ্ট না হয়, পানি যেন পরিষ্কার থাকে এবং কোনো মুরগি খাবার থেকে পিছিয়ে পড়ছে কি না—এসব নিয়মিত দেখতে হবে।

ছোট পরিসরে পালন করলে নিজের মুরগির খাবার খাওয়ার অভ্যাস ও বৃদ্ধির হিসাব কয়েক সপ্তাহ লিখে রাখুন। এতে ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন আপনার মুরগির জন্য কোন খাদ্য ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে ভালো কাজ করছে। ভালো খাবার, পরিষ্কার পানি এবং নিয়মিত যত্ন—এই তিনটি বিষয় ঠিক রাখতে পারলে দেশি মুরগির সুস্থ বৃদ্ধি ও ভালো উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করা অনেক সহজ হয়।

You may also like 

দেশি মুরগি পালন পদ্ধতি: বাচ্চা থেকে বড় করার নিয়ম

FAQ

 

নষ্ট, দুর্গন্ধযুক্ত বা ছত্রাক দেখা যায় এমন খাবার মুরগিকে দেওয়া উচিত নয়। এমন খাবার আলাদা করে নিরাপদভাবে ফেলে দিতে হবেমুরগির খাবার নষ্ট বা ছত্রাকযুক্ত হলে কী করা উচিত?

নষ্ট, দুর্গন্ধযুক্ত বা ছত্রাক দেখা যায় এমন খাবার মুরগিকে দেওয়া উচিত নয়। এমন খাবার আলাদা করে নিরাপদভাবে ফেলে দিতে হবেমুরগির খাবার নষ্ট বা ছত্রাকযুক্ত হলে কী করা উচিত?

নষ্ট, দুর্গন্ধযুক্ত বা ছত্রাক দেখা যায় এমন খাবার মুরগিকে দেওয়া উচিত নয়। এমন খাবার আলাদা করে নিরাপদভাবে ফেলে দিতে হবে।।।

 

শুধু ঘরের উচ্ছিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করে পালন করা ঠিক নয়। মুরগির বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন, শক্তি, ভিটামিন ও খনিজের উৎস নিশ্চিত করা দরকার।

 

খাবারের মতোই পরিষ্কার পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি নোংরা হলে মুরগির স্বাস্থ্য ও খাবার গ্রহণে সমস্যা হতে পারে।

 

হ্যাঁ, ধান বা ভাঙা চাল দেশি মুরগির খাদ্যের অংশ হতে পারে। তবে শুধু শস্য দিয়ে পূর্ণ পুষ্টি নিশ্চিত হয় না।

 

হ্যাঁ, পরিমাণমতো রান্না করা ভাত দেওয়া যায়। তবে শুধু ভাতের ওপর নির্ভর না করে মুরগির প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে অন্যান্য খাবারের সঙ্গেও ভারসাম্য রাখতে হবে।

 

বাচ্চা ও বড় মুরগির খাবার দেওয়ার নিয়ম এক নয়। বয়স, পরিবেশ ও পালন পদ্ধতি অনুযায়ী খাবার দেওয়ার সময় ও পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

 

খাবারের মতোই পরিষ্কার পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি নোংরা হলে মুরগির স্বাস্থ্য ও খাবার গ্রহণে সমস্যা হতে পারে।

 

মুরগির বয়স, আকার, সংখ্যা এবং খাবারের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিন্ন হয়। তাই নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নয়।

 

ছোট বাচ্চার জন্য বয়স উপযোগী চিক স্টার্টার বা সুষম বাচ্চার খাবার সবচেয়ে উপযোগী। পাশাপাশি পরিষ্কার পানি সবসময় রাখতে হয়।

 

দেশি মুরগিকে ধান, ভাঙা চাল, গম, ভুট্টা, ভুসি, বিভিন্ন শাকসবজি ও বয়স অনুযায়ী সুষম খাবার দেওয়া যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top