ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ ২০২৬

ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ ২০২৬ অনুযায়ী ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে এখন খুব সহজে ই-পাসপোর্টের আবেদন থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। বর্তমান যুগে বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট একটি অপরিহার্য দলিল। সাধারণ পাসপোর্ট থেকে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার চালু করেছে ই-পাসপোর্ট (e-Passport)। এতে সংযুক্ত রয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ ও বায়োমেট্রিক তথ্য, যা জালিয়াতি রোধে অত্যন্ত কার্যকরী।

পূর্বে পাসপোর্ট করা ও হাতে পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও, বর্তমানে ডিজিটাল সেবা ও অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের কল্যাণে পুরো প্রক্রিয়াটি হয়েছে অনেক বেশি সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। আপনি যদি ঘরে বসেই অনলাইনে নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে চান অথবা পুরোনো পাসপোর্ট নবায়ন (Re-issue) করতে চান, তবে সঠিক নিয়ম, প্রয়োজনীয় খরচ, ফি পরিশোধের মাধ্যম এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

২০২৬ সালের আপডেট তথ্য ও সরকারি নিয়মকানুন মাথায় রেখে ই-পাসপোর্ট আবেদন থেকে শুরু করে হাতে পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে।

সূচিপত্র

ই-পাসপোর্ট (e-Passport) কী?

ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো প্রচলিত মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (MRP) আধুনিক ও উন্নত সংস্করণ। এতে কাগজের পাশাপাশি একটি সুরক্ষিত ইলেকট্রনিক মাইক্রোচিপ ও অ্যান্টেনা যুক্ত থাকে। এই চিপের ভেতরে পাসপোর্টের মূল পাতার সব তথ্য এবং পাসপোর্টের বাহকের বায়োমেট্রিক ডেটা (যেমন— আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ডিজিটাল ছবি এবং চোখের আইরিশ) সংরক্ষিত থাকে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি এই পাসপোর্টের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে আরও নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত করা। এর ফলে জালিয়াতি বা তথ্য পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকে না। এছাড়া ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে থাকা ই-গেট (e-Gate)-এর মাধ্যমে কোনো দীর্ঘ লাইন ছাড়াই যাত্রীরা খুব দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।

ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৬ (ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া)

২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ থেকে নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেকটাই সহজ ও ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ঘরে বসে অনলাইনে সঠিক নিয়মে আবেদন করতে চাইলে নিচের ৫টি ধাপ অনুসরণ করতে হবে:

১. অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ (Online Application)

ই-পাসপোর্ট করার প্রথম ধাপ হলো অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করা।

* প্রথমে ই-পাসপোর্টের অফিশিয়াল পোর্টালে (www.epassport.gov.bd) প্রবেশ করে “Apply Online” এ ক্লিক করুন।

* আপনার জেলা এবং থানা বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের এলাকা সিলেক্ট করুন।

* জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (ইংরেজি ভার্সন) অনুযায়ী আপনার নাম, জন্মতারিখ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।

* বর্তমানে ১৮ বছরের নিচে হলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন এবং ২০ বছরের ঊর্ধ্বে হলে এনআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক। আবেদনপত্রে কোনো কাগজপত্র বা ছবি সত্যায়ন করার প্রয়োজন হয় না।

২. পাসপোর্টের ধরণ ও মেয়াদ নির্বাচন

আবেদন করার সময় আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পাতার সংখ্যা এবং মেয়াদের ধরণ বেছে নিতে হবে:

* ৪৮ পাতা বা ৬৪ পাতা: আপনার ভ্রমণ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ৪৮ বা ৬৪ পাতার বই বেছে নিতে পারেন।

* মেয়াদ: পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর কিংবা ১০ বছরের জন্য নির্বাচন করা যায়।

৩. পাসপোর্ট ফি পরিশোধ (Passport Fee Payment)

বয়স, পাতার সংখ্যা এবং ডেলিভারির ধরণের ওপর ভিত্তি করে ই-পাসপোর্টের ফি নির্ধারিত হয়। অনলাইন মাধ্যম যেমন— এ-চালান (A-Challan), ডেজিপে (DGePay), সুরজোপে (shurjoPay) অথবা ভিসা/মাস্টারকার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ইত্যাদি) মাধ্যমে ঘরে বসেই সরকারি ফি পরিশোধ করা যায়। পেমেন্ট সফল হওয়ার পর অবশ্যই পেমেন্ট রিসিপ্ট বা চালান কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করবেন।

৪. অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং ও বায়োমেট্রিক প্রদান (Biometric Enrolment)

টাকা পরিশোধ করার পর সিস্টেমে আপনার সুবিধাজনক একটি তারিখ ও সময় বেছে নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট (Appointment) কনফার্ম করতে হবে।

* নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ (যেমন— প্রিন্টেড অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম, এনআইডি/জন্মনিবন্ধন কার্ডের কপি এবং অনলাইন পেমেন্ট স্লিপ) আপনার এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।

* সেখানে আপনার ১০ আঙ্গুলের ছাপ, চোখের আইরিশের স্ক্যান এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এছাড়া কর্মরত ছবি তোলার সময় চোখে চশমা বা হালকা রঙের পোশাক (সাদা বা আকাশী) পরিহার করা ভালো।

৫. পুলিশ ভেরিফিকেশন ও পাসপোর্ট সংগ্রহ (Police Verification & Delivery)

বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয় (জরুরি ক্ষেত্র ভেদে এটি পরিবর্তিত হতে পারে)। ভেরিফিকেশন শেষ হলে পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়। পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে গেলে আপনার মোবাইলে এসএমএস (SMS) আসবে। এরপর পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে অথবা নির্দিষ্ট ডেলিভারি স্লিপ দেখিয়ে খুব সহজেই আপনার কাঙ্ক্ষিত ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য কাগজপত্রের তালিকায় কিছু সহজীকরণ করা হয়েছে। আপনার বয়স ও পেশার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ধরণ ভিন্ন হতে পারে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (১৮ বছর বা তার বেশি)

* জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): মূল এনআইডি কার্ড অথবা স্মার্ট কার্ড। (স্মার্ট কার্ড না থাকলে অনলাইন কপি বা ভোটার স্লিপ ব্যবহার করা যাবে)।

* অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (যদি এনআইডি না থাকে বা তথ্যে অমিল থাকে): জন্মনিবন্ধনটি অবশ্যই ইংরেজি ভার্সন এবং অনলাইন ভেরিফাইড হতে হবে।

* পুরোনো পাসপোর্ট (যদি রি-ইস্যু বা নবায়ন হয়): আগের পাসপোর্টের মূল কপি এবং প্রথম ও শেষ পাতার ফটোকপি।

১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য (শিশুদের ই-পাসপোর্ট)

* অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ: শিশুর জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক।

* পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): বাবা ও মায়ের এনআইডি কার্ডের কপি আবশ্যিক।

* পাসপোর্ট সাইজ ছবি: কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে, তবে মূলত বায়োমেট্রিকের সময় অফিসে ছবি তোলা হয়।

বিশেষ পেশাজীবীদের জন্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

* সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে: জিও (GO – Government Order) অথবা এনওসি (NOC – No Objection Certificate) জমা দিতে হবে।

* ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা অন্যান্য পেশাজীবী: প্রয়োজন সাপেক্ষে পেশাগত আইডি কার্ড বা সার্টিফিকেট যুক্ত করা যেতে পারে।

> প্রয়োজনীয় নোট: আবেদন করার সময় কোনো কাগজ বা ছবি সত্যায়ন (Attestation) করার প্রয়োজন হয় না। তবে প্রিন্টেড অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম এবং পেমেন্ট স্লিপের প্রিন্ট কপি অবশ্যই সাথে রাখতে হবে।

ই-পাসপোর্ট করার যোগ্যতা ও বয়সসীমা

বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। কারণ ই-পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশের ভেতরে বা বাইরে বসবাসকারী সব বয়সী নাগরিকের জন্যই উন্মুক্ত সুযোগ রয়েছে—নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়স্ক প্রবীণ নাগরিক এই পাসপোর্টের জন্য যোগ্য। তবে বয়স ভেদে আবেদন প্রক্রিয়া এবং পাসপোর্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে:

বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূল দলিল (Identity Documents)

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী বয়সের তারতম্য অনুযায়ী ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়:

* ১৮ বছরের নিচে: ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (ইংরেজি ভার্সন) বাধ্যতামূলক। এছাড়া আবেদন করার সময় বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর যুক্ত করা আবশ্যক।

* ১৮ থেকে ২০ বছর বয়স: এই বয়সের নাগরিকরা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ—উভয়ের যেকোনো একটি দিয়ে আবেদন করতে পারেন।

* ২০ বছরের উর্ধ্বে: ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকা বাধ্যতামূলক।

বয়স ভেদে পাসপোর্টের মেয়াদ

আবেদনকারীর বয়সের ওপর ভিত্তি করে ই-পাসপোর্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে:

* শিশুদের জন্য (১৮ বছরের নিচে): ১৮ বছরের কম বয়সীদের ই-পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বদা ৫ বছর হয়ে থাকে।

* প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (১৮ থেকে ২১ বছরের ওপর): প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর অথবা ১০ বছর—উভয়টির যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম অনুযায়ী ঘরে বসে খুব সহজেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করা যায়। এর পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো:

১. পোর্টালে প্রবেশ ও লোকাল অফিস নির্বাচন

* প্রথমে ই-পাসপোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.epassport.gov.bd) ভিজিট করুন এবং “Apply Online” এ ক্লিক করুন।

* আপনি আপনার বর্তমান জেলার নাম এবং থানা বা নির্দিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস (Regional Passport Office) সিলেক্ট করুন, যেখান থেকে আপনি পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক দিতে ইচ্ছুক।

২. ব্যক্তিগত তথ্য ও অ্যাকাউন্ট তৈরি

* আপনার সচল ইমেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এরপর ইমেইলে আসা লিংক দিয়ে অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাই বা অ্যাক্টিভ করে নিন।

* লগইন করার পর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (ইংরেজি ভার্সন) অনুযায়ী নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য পূরণ করুন। ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের এনআইডি নম্বর আবশ্যিকভাবে যুক্ত করতে হবে।

৩. পাসপোর্টের ধরণ ও পৃষ্ঠা নির্বাচন

* আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্টের ধরণ (সাধারণ বা অফিশিয়াল) সিলেক্ট করুন।

* এরপর ৪৮ পাতা কিংবা ৬৪ পাতা এবং পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর বা ১০ বছর—এর যেকোনো একটি অপশন বেছে নিন।

৪. ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য পূরণ

* আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে প্রদান করুন। মনে রাখবেন, এখানে প্রদত্ত বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী আপনার পাসপোর্ট অফিস ও পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।

* পিতা-মাতার নাম এবং পেশার বিবরণ জাতীয় পরিচয়পত্র বা সনদ অনুযায়ী হুবহু লিখুন। বিবাহিতদের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীর (Spouse Name) নাম যুক্ত করতে চাইলে তা নির্দিষ্ট ঘরে পূরণ করুন।

৫. আবেদন পর্যালোচনা ও সাবমিট

* পুরো ফর্মটি পূরণ করার পর সাবমিট করার আগে খুব ভালোভাবে রিভিশন দিয়ে নিন। কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নিন, কারণ সাবমিট করার পর অনলাইনে সরাসরি বড় ধরনের পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে।

* ফরম সাবমিট করার পর একটি সামারি শিট (Summary Sheet) এবং বারকোডযুক্ত সম্পূর্ণ আবেদনপত্রটি পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।

> জরুরি টিপস: অনলাইনে আবেদন করার সময় কোনো কাগজপত্র বা ছবি স্ক্যান করে আপলোড কিংবা সত্যায়ন করার প্রয়োজন হয় না। প্রিন্ট করা আবেদন কপি এবং পেমেন্ট স্লিপ অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সাথে রাখলেই যথেষ্ট।

ই-পাসপোর্ট আবেদন ফি ও খরচ ২০২৬

২০২৬ সালের আপডেট তথ্য অনুযায়ী, ১৫% ভ্যাট (VAT) যুক্ত করে দেশের ভেতরে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ই-পাসপোর্টের নির্ধারিত সরকারি ফি নিচে দেওয়া হলো। পাসপোর্টের পৃষ্ঠা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির গতির ওপর ভিত্তি করে এই খরচ ভিন্ন হয়ে থাকে:

১. ৪৮ পাতার ই-পাসপোর্ট ফি

* ৫ বছর মেয়াদী:

* নিয়মিত ডেলিভারি (Regular): ৪,০২৫ টাকা

* জরুরি ডেলিভারি (Express): ৬,৩২৫ টাকা

* অতি জরুরি ডেলিভারি (Super Express): ৮,৬২৫ টাকা 

* ১০ বছর মেয়াদী:

* নিয়মিত ডেলিভারি (Regular): ৫,৭৫০ টাকা

* জরুরি ডেলিভারি (Express): ৮,০৫০ টাকা

* অতি জরুরি ডেলিভারি (Super Express): ১০,৩৫০ টাকা

২. ৬৪ পাতার ই-পাসপোর্ট ফি

* ৫ বছর মেয়াদী:

* নিয়মিত ডেলিভারি (Regular): ৬,৩২৫ টাকা

* জরুরি ডেলিভারি (Express): ৮,৬২৫ টাকা

* অতি জরুরি ডেলিভারি (Super Express): ১২,০৭৫ টাকা

* ১০ বছর মেয়াদী:

* নিয়মিত ডেলিভারি (Regular): ৮,০৫০ টাকা

* জরুরি ডেলিভারি (Express): ১০,৩৫০ টাকা

* অতি জরুরি ডেলিভারি (Super Express): ১৩,৮০০ টাকা

> ডেলিভারি সময়সীমা:

> * নিয়মিত ডেলিভারির ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২১ কার্যদিবস।

> * জরুরি ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ কার্যদিবস।

> * অতি জরুরি (সুপার এক্সপ্রেস) ডেলিভারির ক্ষেত্রে মাত্র ২ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়।

রেগুলার, জরুরি ও অতি জরুরি ই-পাসপোর্টের খরচের পার্থক্য

ই-পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ডেলিভারির দ্রুততার ওপর ভিত্তি করে ফি বা খরচে তারতম্য হয়ে থাকে। আপনার কতটা দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন, তার ওপর নির্ভর করে আপনাকে রেগুলার, এক্সপ্রেস (জরুরি) কিংবা সুপার এক্সপ্রেস (অতি জরুরি) ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে। এই তিন ধরনের ডেলিভারির খরচের পার্থক্য নিচে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো:

১. ৪৮ পাতা এবং ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের পার্থক্যের তুলনামূলক চিত্র

* রেগুলার ডেলিভারি (Regular): খরচ ৪,০২৫ টাকা (১৫-২১ কার্যদিবসের মধ্যে হাতে পাওয়া যায়)।

* জরুরি ডেলিভারি (Express): খরচ ৬,৩২৫ টাকা (রেগুলারের চেয়ে ২,৩০০ টাকা বেশি, ৭-১০ কার্যদিবসে পাওয়া যায়)।

* অতি জরুরি ডেলিভারি (Super Express): খরচ ৮,৬২৫ টাকা (রেগুলারের চেয়ে ৪,৬০০ টাকা বেশি, মাত্র ২ কার্যদিবসে পাওয়া যায়)।

২. ৪৮ পাতা এবং ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের পার্থক্যের তুলনামূলক চিত্র

* রেগুলার ডেলিভারি (Regular): খরচ ৫,৭৫০ টাকা।

* জরুরি ডেলিভারি (Express): খরচ ৮,০৫০ টাকা (অতিরিক্ত ২,৩০০ টাকা)।

* অতি জরুরি ডেলিভারি (Super Express): খরচ ১০,৩৫০ টাকা (অতিরিক্ত ৪,৬০০ টাকা)।

৩. ৬৪ পাতা এবং ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের পার্থক্যের তুলনামূলক চিত্র (সর্বোচ্চ খরচ)

* রেগুলার ডেলিভারি (Regular): খরচ ৮,০৫০ টাকা।

* জরুরি ডেলিভারি (Express): খরচ ১০,৩৫০ টাকা (অতিরিক্ত ২,৩০০ টাকা)।

* অতি জরুরি ডেলিভারি (Super Express): খরচ ১৩,৮০০ টাকা (অতিরিক্ত ৫,৭৫০ টাকা)।

> সহজ হিসাব: সাধারণত রেগুলার ফি থেকে জরুরি ডেলিভারিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাড়তি ফি যোগ হয় এবং অতি জরুরি বা সুপার এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি হয়। আপনার যদি ভ্রমণের তাড়া না থাকে, তবে রেগুলার ডেলিভারি নির্বাচন করাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী। তবে জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত ফি দিয়ে এক্সপ্রেস বা সুপার এক্সপ্রেস সেবা বেছে নেওয়া যায়।

 

ই-পাসপোর্ট আবেদন ফি কীভাবে পরিশোধ করবেন?

অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন ফর্ম পূরণ করার পর নির্দিষ্ট সরকারি ফি পরিশোধ করতে হয়। ২০২৬ সালের আধুনিক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনি ঘরে বসেই খুব সহজে বিভিন্ন অনলাইন গেটওয়ে বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এই ফি পরিশোধ করতে পারবেন। ফি পরিশোধের প্রধান মাধ্যমগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট (বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়)

বাংলাদেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি ই-পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যায়:

* আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে (যেমন— bKash বা Nagad) প্রবেশ করুন।

* “Pay Bill” অথবা “Govt. Fees” অপশনে যান।

* বিলার বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে “e-Passport” সিলেক্ট করুন।

* আপনার ই-পাসপোর্ট পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত Application ID বা ট্র্যাকিং নম্বরটি দিন।

* আপনার পাসপোর্টের ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি শো করবে। এরপর আপনার পিন (PIN) নম্বর দিয়ে পেমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করুন।

২. অনলাইন ব্যাংকিং ও কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট

ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করেও ফি দেওয়া সম্ভব:

* ভিসা (Visa), মাস্টারকার্ড (Mastercard) কিংবা আমেরিকান এক্সপ্রেস (AmEx) কার্ড ব্যবহার করতে পারেন।

* এছাড়া সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন লোকাল ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা গেটওয়ে ব্যবহার করে পেমেন্ট করা যায়।

৩. এ-চালান (A-Challan) এর মাধ্যমে পেমেন্ট

বাংলাদেশ সরকারের অফিশিয়াল “A-Challan” পোর্টাল ব্যবহার করে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ডের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফি জমা দেওয়া যায়। পোর্টালে গিয়ে নির্দিষ্ট কোড ও তথ্য দিয়ে চালান জেনারেট করে পেমেন্ট করতে হয়।

> অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: পেমেন্ট সফল হওয়ার পর স্ক্রিনে আসা পেমেন্ট রিসিপ্ট বা ট্রানজ্যাকশন আইডি (TrxID) কপি এবং চালান কপি অবশ্যই ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করবেন। পাসপোর্ট অফিসের অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন এই কপিটি সাথে নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক।

 

পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক ও প্রয়োজনীয় করণীয়

অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধ করার পর ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক বা শারীরিক তথ্য প্রদান করা। এই ধাপে আপনার ছবি, আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়। পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার দিন আপনার যা যা করণীয় এবং যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সঙ্গে যা যা নিয়ে যেতে হবে

নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় নিচের কাগজপত্রগুলোর প্রিন্ট কপি অবশ্যই সাথে রাখবেন:

* অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ (Appointment Notice): অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপয়েন্টমেন্টের কাগজ।

* অনলাইন আবেদনপত্র: বারকোডযুক্ত সম্পূর্ণ আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি।

* পেমেন্ট স্লিপ: ফি পরিশোধের রসিদ বা এ-চালানের কপি।

* মূল পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (মূল কপি এবং একটি ফটোকপি)।

* পূর্ববর্তী পাসপোর্ট (যদি থাকে): রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পুরোনো পাসপোর্ট এবং তার ফটোকপি।

২. বায়োমেট্রিক বা ডেট এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া

পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছানোর পর নির্দিষ্ট কাউন্টারে আপনার কাগজপত্র যাচাই করা হবে। এরপর বায়োমেট্রিক বুথে আপনার নিচের কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে:

* ছবি তোলা: আপনার মুখের ডিজিটাল ছবি তোলা হবে। ছবি তোলার সময় খেয়াল রাখবেন যেন চোখ স্পষ্ট থাকে, চশমা পরিহার করা ভালো এবং চুল যেন মুখ বা চোখ ঢেকে না ফেলে।

* আঙুলের ছাপ (Fingerprints): মেশিনের সাহায্যে আপনার দুই হাতের ১০টি আঙুলের ছাপ স্ক্যান করা হবে।

* আইরিশ স্ক্যান (Iris Scan): চোখের মণি বা আইরিশের স্ক্যান করা হবে।

* ডিজিটাল স্বাক্ষর: প্যাডের ওপর ডিজিটাল কলম দিয়ে আপনার স্বাক্ষর নেওয়া হবে।

৩. সেদিনের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ ও সতর্কতা

* পোশাকের নির্বাচন: পাসপোর্ট অফিসে ছবি তোলার জন্য হালকা রঙের পোশাক (যেমন— সাদা, হালকা নীল বা আকাশী রঙের শার্ট বা কামিজ) পরা ভালো। উজ্জ্বল বা ডিপ কালারের পোশাক এড়িয়ে চলা শ্রেয়।

* সময়মতো উপস্থিতি: অ্যাপয়েন্টমেন্টের নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করুন।

* দালাল থেকে সাবধান: পাসপোর্ট অফিসে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সমস্ত প্রক্রিয়া খুব সহজ এবং সেখানে থাকা হেল্প ডেস্কের কর্মকর্তারা আপনাকে যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা করবেন।

> বায়োমেট্রিক সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে। এই স্লিপটি অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করুন, কারণ পরবর্তীতে পাসপোর্ট গ্রহণের সময় এটি বাধ্যতামূলকভাবে দেখাতে হবে।

ই-পাসপোর্ট হতে কতদিন লাগে?

ই-পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ডেলিভারির সময়সীমা নির্ভর করে আপনি আবেদন করার সময় কোন ক্যাটাগরি বা গতি বেছে নিয়েছেন তার ওপর। সাধারণত আপনি যে ফি পরিশোধ করবেন, সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে যায়। ই-পাসপোর্টের বিভিন্ন ডেলিভারির সময়সীমা নিচে দেওয়া হলো:

১. নিয়মিত ডেলিভারি (Regular Delivery)

* সময়সীমা: সাধারণত ১৫ থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়।

* আপনি যদি সাধারণ ফি দিয়ে আবেদন করেন এবং কোনো তাড়া না থাকে, তবে এই ক্যাটাগরিটি আপনার জন্য উপযোগী।

২. জরুরি ডেলিভারি (Express Delivery)

* সময়সীমা: এই ক্যাটাগরিতে পাসপোর্ট তৈরি হতে ৭ থেকে ১০ কার্যদিবস সময় লাগে।

* তুলনামূলক কম সময়ে এবং জরুরি প্রয়োজনে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য এই মাধ্যমটি বেছে নেওয়া হয়।

৩. অতি জরুরি বা সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি (Super Express Delivery)

* সময়সীমা: সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ মাত্র ২ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়।

* আপনার যদি অত্যন্ত জরুরি বা তাৎক্ষণিক বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন হয়, তবে সর্বোচ্চ ফি দিয়ে এই সুপার এক্সপ্রেস সেবা নিতে পারেন।

> বিশেষ দ্রষ্টব্য: কার্যদিবস গণনার ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) এবং সরকারি ছুটির দিনগুলো বাদ যাবে। এছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন বা কাগদপত্রে কোনো ধরণের জটিলতা না থাকলে সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পাওয়া সম্ভব।

পুলিশ ভেরিফিকেশন কবে লাগে, কবে লাগে না?

ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশন বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আবেদনকারীর বয়স, পাসপোর্টের ধরণ এবং আগের পাসপোর্টের তথ্যের ওপর নির্ভর করে পুলিশ ভেরিফিকেশন কখনো বাধ্যতামূলক হয়, আবার কখনো এটি ছাড়াই পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

১. কোন ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন আবশ্যিক?

সাধারণত নিচের পরিস্থিতিগুলোতে পুলিশ ভেরিফিকেশন করা বাধ্যতামূলক:

* প্রথমবার নতুন পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে: আপনি যদি একদম নতুন পাসপোর্ট বা ফার্স্ট টাইম পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন আবশ্যিক। স্থানীয় পুলিশ অফিসার আপনার দেওয়া বর্তমান ঠিকানা যাচাই করতে সশরীরে বাড়ি আসতে পারেন অথবা থানায় ডাকতে পারেন।

* তথ্য পরিবর্তন করে রি-ইস্যু করলে: পুরোনো পাসপোর্ট নবায়ন বা রি-ইস্যু করার সময় যদি আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, বা জন্মতারিখে বড় ধরনের পরিবর্তন করেন, তবে নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।

* পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে: ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে রি-ইস্যু করার সময় সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং সাধারণ ডায়েরির (GD) কপি যাচাই করা হয়।

২. কোন ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না?

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই খুব দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়:

* মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট সাধারণ রি-ইস্যু (Without Change): আপনার পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং আপনি নতুন বই নেওয়ার সময় পাসপোর্টের আগের কোনো তথ্যেই (নাম, ঠিকানা, বয়স ইত্যাদি) কোনো পরিবর্তন করেননি, তবে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়।

* অফিশিয়াল বা ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট: নির্দিষ্ট সরকারি চাকরিজীবী বা বিশেষ পদমর্যাদার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জিও (GO) বা এনওসি (NOC) সাপেক্ষে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শিথিল থাকে বা সরাসরি সম্পন্ন হয়।

* কৈশোর বা শিশু বয়সীদের ক্ষেত্রে: ১৮ বছরের কম বয়সীদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অনেক সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনের নিয়মটি সহজ করা হয় কিংবা জন্মনিবন্ধন ও বাবা-মায়ের এনআইডি সঠিক থাকলে সরাসরি পাসপোর্টের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।

> পরামর্শ: পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার বর্তমান ঠিকানায় কেউ এলে তাকে প্রয়োজনীয় সত্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। আপনার দেওয়া বর্তমান ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিক থাকলে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং আপনার পাসপোর্ট প্রিন্ট হওয়ার পথ সুগম হয়।

ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম

ই-পাসপোর্টের জন্য বায়োমেট্রিক বা ছবি তোলার পর আপনার পাসপোর্টটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে (যেমন— প্রিন্টিং, পুলিশ ভেরিফিকেশন কিংবা ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত) তা অনলাইনেই খুব সহজে চেক করা যায়। আপনার পাসপোর্ট তৈরি হলো কিনা তা জানার পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

১. অফিশিয়াল পোর্টাল থেকে স্ট্যাটাস চেক

* প্রথমে ই-পাসপোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (www.epassport.gov.bd) প্রবেশ করুন।

* ওয়েবসাইটের মেনু থেকে “Check Status” অপশনে ক্লিক করুন।

* আপনার আবেদন করার সময় প্রাপ্ত Application ID (যা আবেদন ফরম বা স্লিপে থাকে) এবং আপনার জন্মতারিখ (জন্মসাল-মাস-দিন ফরম্যাটে) সঠিকভবে ইনপুট দিন।

* ক্যাপচা (Captcha) কোডটি পূরণ করে “Check” বাটনে ক্লিক করলেই আপনার পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা স্ক্রিনে দেখতে পাবেন।

২. এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে স্ট্যাটাস চেক

কিছু ক্ষেত্রে সিস্টেমের নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে এসএমএস পাঠিয়েও পাসপোর্টের আপডেট জেনে নেওয়া যায়। তবে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চেক করাটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজ মাধ্যম।

  • “আবেদনের পর বর্তমান অবস্থা জানতে স্ট্যাটাস চেক অপশন ব্যবহার করুন।”

 পাসপোর্ট সংগ্রহের নিয়ম: স্ট্যাটাস যখন দেখাবে “Passport Ready for Issuance” বা “Ready for Delivery”, তখন আপনার মোবাইল ফোনে এসএমএস আসবে। এরপর নির্ধারিত ডেলিভারি স্লিপ এবং আপনার এনআইডি কার্ড বা পূর্ববর্তী পাসপোর্ট নিয়ে নির্দিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আপনার ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।

ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করার নিয়ম

ই-পাসপোর্ট প্রিন্ট হওয়ার পর তা নির্দিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে সশরীরে গিয়ে সংগ্রহ করতে হয়। অনলাইন স্ট্যাটাসে যখন দেখতে পাবেন আপনার পাসপোর্টটি বিতরণের জন্য প্রস্তুত (Ready for Delivery) এবং আপনার মোবাইলে এসএমএস (SMS) আসবে, তখন নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে:

১. পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় যা সাথে নিতে হবে

* ডেলিভারি স্লিপ: বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময় পাসপোর্ট অফিস থেকে যে মূল ডেলিভারি স্লিপ বা রসিদ দেওয়া হয়েছিল সেটি বাধ্যতামূলক।

* জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্মনিবন্ধন সনদ: আপনার মূল এনআইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড সাথে রাখতে হবে।

* পুরোনো পাসপোর্ট (যদি রি-ইস্যু হয়): আপনার যদি কোনো পুরোনো পাসপোর্ট থাকে, তবে সেটি সাথে নিয়ে যেতে হবে (সাধারণত পুরোনো পাসপোর্টটি কেটে বা পাঞ্চ করে বাতিল করে ফেরত দেওয়া হয়)।

২. পাসপোর্ট সংগ্রহের ধাপসমূহ

* নির্ধারিত দিনে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নির্ধারিত ডেলিভারি কাউন্টারে যান।

* আপনার ডেলিভারি স্লিপটি কাউন্টারে জমা দিন।

* এসময় অফিসার আপনার আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাই করে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করবেন।

* যাচাই প্রক্রিয়া সফল হওয়ার পর আপনার নতুন ই-পাসপোর্টটি আপনার হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

৩. পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করা (অত্যন্ত জরুরি)

হাত পাওয়ার সাথে সাথেই পাসপোর্টের ভেতরের তথ্যগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে নিন:

* আপনার ইংরেজি ও বাংলায় নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং লিঙ্গ সঠিকভাবে প্রিন্ট হয়েছে কি না তা চেক করুন।

* পাসপোর্টের চিপ বা ইলেকট্রনিক অংশটি ঠিক আছে কি না তা দেখে নিন।

* কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।

নতুন ই-পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণ ভুল ও সমাধান

ই-পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়াটি এখন পুরোটাই ডিজিটাল হলেও সামান্য ভুলের কারণে অনেক সময় আবেদন আটকে যায় বা পাসপোর্ট হাতে পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। অনলাইনে আবেদন করার সময় সাধারণ যেসব ভুল সচরাচর দেখা যায় এবং সেগুলোর সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

১. এনআইডি (NID) বা জন্মনিবন্ধনের সাথে তথ্যের অমিল

* ভুল: অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের সময় নাম, জন্মতারিখ বা পিতা-মাতার নাম জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের স্পেলিংয়ের সাথে হুবহু না মিলিয়ে নিজের মতো করে টাইপ করা।

* সমাধান: ই-পাসপোর্ট সিস্টেমে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য ফেচ (Fetch) হয়। তাই নিজে থেকে কোনো তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না। এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনে যদি কোনো ভুল থেকে থাকে, তবে পাসপোর্ট আবেদনের আগে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে এনআইডি/জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে নেওয়া উচিত।

২. ভুল বর্তমান ঠিকানা বা থানা নির্বাচন

* ভুল: ভুলবশত বর্তমান ঠিকানার জায়গায় অন্য থানা বা অন্য জেলা সিলেক্ট করা। এর ফলে পুলিশ ভেরিফিকেশনে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হয়।

* সমাধান: আপনি বর্তমানে যে ঠিকানায় বসবাস করছেন এবং যেখানে পুলিশ ভেরিফিকেশন টিম ভিজিট করতে পারবে, সেটাই আপনার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে দিতে হবে। ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকুন, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই আপনার লোকাল পাসপোর্ট অফিস নির্ধারিত হয়।

৩. ভুল ফরম্যাট বা ভুল বয়সের কোড সিলেক্ট করা

* ভুল: ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ভুলবশত প্রাপ্তবয়স্কদের অপশন সিলেক্ট করা অথবা জন্মতারিখে ভুল ইনপুট দিয়ে বয়স বেশি বা কম দেখানো।

* সমাধান: আবেদন করার সময় জন্মতারিখ দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। কারণ একবার ফরম সাবমিট হয়ে গেলে এবং পেমেন্ট সম্পন্ন হলে বয়স বা জন্মতারিখের মতো সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে সরাসরি পরিবর্তন করা যায় না।

৪. পেমেন্ট করার সময় ভুল Application ID দেওয়া

* ভুল: মোবাইল ব্যাংকিং বা এ-চালানের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করার সময় ভুল ট্র্যাকিং নম্বর বা Application ID ইনপুট দেওয়া।

* সমাধান: পেমেন্ট করার আগে অন্তত দুইবার আপনার Application ID বা ট্র্যাকিং নম্বরটি ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। ভুল আইডিতে টাকা চলে গেলে তা রিফান্ড পেতে বা পাসপোর্টের সাথে যুক্ত করতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়।

> বিশেষ পরামর্শ: অনলাইনে সাবমিট করার আগে পুরো আবেদন ফরমটি খুব ভালোভাবে রিভিশন (Review) করুন। একবার পেমেন্ট করে ফেললে সাধারণ ভুলগুলো সংশোধনের জন্য পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ।

 

FAQ

 

​হ্যাঁ, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। যেমন— পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো ধরনের তথ্য পরিবর্তন না করে সাধারণ রি-ইস্যু (Renewal) করলে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না। তবে প্রথমবার নতুন পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে বা তথ্যে বড় কোনো পরিবর্তন থাকলে ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক।

 

​ই-পাসপোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (www.epassport.gov.bd) প্রবেশ করে "Check Status" অপশনে গিয়ে আপনার Application ID এবং জন্মতারিখ ইনপুট দিয়ে খুব সহজেই পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।

 

​নির্ধারিত দিনে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় অনলাইন আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ, পেমেন্ট স্লিপ বা রসিদ, মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ এবং পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থাকে) সাথে রাখতে হবে।

 

​একবার অনলাইনে ফরম সাবমিট এবং পেমেন্ট সম্পন্ন হয়ে গেলে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের মূল তথ্যগুলো সরাসরি পরিবর্তন করা যায় না। তাই পেমেন্ট করার আগেই পুরো আবেদন ফরমটি ভালোভাবে যাচাই বা রিভিশন করে নেওয়া উচিত।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top